তারাতলা বিপর্যয়, কাঠগড়ায় পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়া!
তারাতলার মর্মান্তিক নির্মাণ বিপর্যয়ের ঘটনায় কলকাতা পুরনিগমের চিফ ম্যানেজার কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে পড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই আধিকারিককে নিশানা করে বেআইনি নির্মাণ ও দুর্নীতির মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কালীচরণ সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরসভার বেআইনি নির্মাণ অনুমোদন ও দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
পুরসভার অন্দরে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জানা গেছে, বর্তমানে তিনি সাংসদ তহবিলের দায়িত্বে থাকলেও পূর্বে মেয়রের ছায়াসঙ্গী হিসেবে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কলকাতার বাইপাসে তৃণমূলের ২০০ কোটি টাকার ভবন নির্মাণের অর্থের জোগানও তিনিই দিতেন। তবে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, কারণ অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কালীচরণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তারাতলার বিপর্যয়ের তদন্তে এই হাই-প্রোফাইল নাম উঠে আসায় পুরসভার শীর্ষপর্যায়ের একাধিক আধিকারিক নজরবন্দি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত কোনো মন্তব্য করেননি।