শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট কি বদলে দেবে বাংলার ভাগ্য?
সোমবার পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হতে চলেছে। এই বাজেটের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো একটি চিঠি রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও পরিকাঠামো খাতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি, জল জীবন মিশন ও রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ৫৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কেন্দ্রের এই বিপুল আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রাজ্যের প্রথম বাজেটের রূপরেখাকে আরও মজবুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়ে অর্থনীতির বিকাশের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মৎস্যচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বন্দরভিত্তিক অর্থনীতি, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে উৎসাহ প্রদানের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতাকে আধুনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার বার্তাও থাকছে উন্নয়নের এই পরিকল্পনায়।
কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাসের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে প্রায় ৭.৬ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা এবং সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ও বেতন কমিশনের দাবি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বজায় রেখে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সরকারের বড় পরীক্ষা। এই বাজেটে সরকারি কর্মীদের ডিএ সংক্রান্ত কোনো বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের ইতিবাচক ভূমিকা এবং রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বাজেট রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।