যুদ্ধক্ষেত্রে কি ফিরছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমেজ? এবার গাড়ি নয়, অস্ত্র বানাবে আমেরিকা!

বর্তমান ডেস্কঃ

ইউক্রেন এবং ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন তাদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে চায়। আর এই লক্ষ্যপূরণে সাধারণ বেসামরিক গাড়ি তৈরির কারখানাগুলোকেও ব্যবহার করার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন সমরাস্ত্রের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে জেনারেল মোটরস (GM) এবং ফোর্ড মোটরের মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে প্রশাসন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কি আবারও ‘আর্সেনাল অফ ডেমোক্রেসি’ হওয়ার পথে এগোচ্ছে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে জোর বিশ্লেষণ।

মার্কিন সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তনের আভাস

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে ‘ওয়ারটাইম ফুটিং’ বা যুদ্ধকালীন অবস্থানে নিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মূলত যুদ্ধের প্রয়োজনে সামরিক সরঞ্জামের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য। আলোচনার মূল বিষয়গুলো হলো:

  • উৎপাদন লাইনের পরিবর্তন: কারখানাগুলো কত দ্রুত সাধারণ গাড়ি থেকে সামরিক হার্ডওয়্যার তৈরির দিকে মোড় নিতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন: উৎপাদনের গতি কমিয়ে দিতে পারে এমন চুক্তি বা আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায় খুঁজছে পেন্টাগন।
  • কর্মীবাহিনীর ব্যবহার: অটোমোবাইল শিল্পের দক্ষ কর্মীদের ড্রোন, মিসাইল এবং অন্যান্য কৌশলগত অস্ত্র তৈরিতে নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

অটোমোবাইল খাতের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছে আলোচনা

প্রশাসনের এই তৎপরতা কেবল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পেন্টাগন আরও বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চালিয়েছে:

  • জিই অ্যারোস্পেস (GE Aerospace): বিমান ও প্রতিরক্ষা খাতে যাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  • ওশকোশ (Oshkosh): এই কো ম্পা নিটি আগে থেকেই সামরিক যান তৈরির কাজ করে। কো ম্পা নির শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমানে তাদের সক্ষমতা ও সামরিক চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি মূল্যায়ন করছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার পেছনে শক্তিশালী ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন গাড়ি নির্মাতারা বেসামরিক গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে বোমারু বিমান এবং সামরিক ইঞ্জিন তৈরি শুরু করেছিল। সেই প্রচেষ্টাই যুক্তরাষ্ট্রকে তৎকালীন সময়ে এক অজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিল।

বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে মার্কিন গোলবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা আকাশচুম্বী। পেন্টাগন কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবলমাত্র প্রচলিত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের ওপর নির্ভর না করে বাণিজ্যিকভাবে সফল প্রযুক্তি এবং সমাধানগুলোকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত সামরিক শিল্পভিত্তি সম্প্রসারণ করা এখন সময়ের দাবি।

এক নজরে

  • ট্রাম্প প্রশাসন জেনারেল মোটরস ও ফোর্ডের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে।
  • আলোচনার মূলে রয়েছে ড্রোন, মিসাইল এবং কৌশলগত সামরিক হার্ডওয়্যার উৎপাদন বাড়ানো।
  • লক্ষ্য হলো মার্কিন উৎপাদন খাতকে ‘যুদ্ধকালীন অবস্থায়’ নিয়ে আসা।
  • জিই অ্যারোস্পেস ও ওশকোশ কো ম্পা নিও এই আলোচনার অংশীদার।
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আদলে বেসামরিক কারখানা ব্যবহারের ঐতিহাসিক কৌশল ফিরছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *