বিপদের দিনে পাশে সচিন, রূপকথার বন্ধুত্বের এক অনন্য নজির!
বর্তমান ডেস্কঃ
ভারতীয় ক্রিকেটের এক সময়ের উদীয়মান নক্ষত্র এবং শচীন টেন্ডুলকারের ছোটবেলার বন্ধু বিনোদ কাম্বলির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাম্বলির ঘনিষ্ঠ বন্ধু মার্কাস কৌটো এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে, কাম্বলি বর্তমানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং যেকোনো সময় তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে যা অপসারণ করা এখন প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়েছে।
কাম্বলির মস্তিষ্কের এই জটিল অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে সময়মতো প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিখ্যাত নিউরোসার্জন ডা. আদিল চাগলা তার চিকিৎসা করছেন। বর্তমানে কাম্বলির স্মৃতিশক্তি আগের মতো কাজ করছে না, যদিও গত ছয় মাসে তার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়নি। তবে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে পরবর্তী পর্যায়টি ব্রেন স্ট্রোক হতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।
ক্রিকেট জীবনের শুরুতে শচীন ও কাম্বলিকে নিয়ে সমান প্রত্যাশা থাকলেও ব্যক্তিগত ও শারীরিক নানা জটিলতায় কাম্বলির ক্যারিয়ার অনেক আগেই থমকে যায়। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি শারীরিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউরিনারি ইনফেকশনের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। সে সময় তার অসহায়ত্বের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্রিকেট বিশ্বের অনেক তারকা তার পাশে দাঁড়ান।
কাম্বলির বর্তমান লড়াইয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন সতীর্থ ও বন্ধুরা। মার্কাস কৌটো জানিয়েছেন, কাম্বলির বন্ধুদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে যেখানে ক্রিকেটাররা নিয়মিত তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন। এমনকি কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবও কাম্বলির স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কপিল দেব তাকে রিহ্যাব সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। সম্প্রতি শচীন টেন্ডুলকারও তার এই দীর্ঘদিনের বন্ধুর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এক নজরে
- কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে, যা এখন আর অপসারণযোগ্য নয়।
- যেকোনো সময় তার ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
- নিউরোসার্জন ডা. আদিল চাগলা কাম্বলির চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করছেন।
- ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গুরুতর ইউরিনারি ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।
- শচীন টেন্ডুলকারসহ প্রাক্তন সতীর্থরা কাম্বলির চিকিৎসা ও আর্থিক প্রয়োজনে সহায়তা করছেন।