বাচ্চা হচ্ছে না? বউকে পাঠিয়ে দাও! টিসিএস কর্মীকে টিম লিডারের জঘন্য কুপ্রস্তাব

বর্তমান ডেস্কঃ

দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস (TCS)-এর নাসিক শাখায় এক কর্মীকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। কর্মীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য থেকে শুরু করে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে এখন উত্তাল আইটি মহল। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন টিম লিডার তৌসিফ আত্তার এবং সহকর্মী দানিশ শেখ।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিকর মন্তব্য

ভুক্তভোগী কর্মীর দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালে সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের নিশানায় পরিণত হন। বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করা হতো। ওই কর্মীর অভিযোগ, তাঁর সন্তান না হওয়া নিয়ে বিদ্রূপ করে বলা হতো, “বাচ্চা হচ্ছে না? তোর বউকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দে।” একজন পেশাদার কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের চূড়ান্ত অশালীন মন্তব্য কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত ও বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ

শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, ওই কর্মীকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের জন্যও লাঞ্ছিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

  • রুদ্রাক্ষ পরা নিয়ে চরম অপমানের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
  • জোর করে মাথায় টুপি পরানো এবং নামাজ পড়তে বাধ্য করার মতো অভিযোগ উঠেছে।
  • কালমা পাঠ করতে বাধ্য করা এবং নিরামিষাশী হওয়া সত্ত্বেও জোর করে আমিষ খাবার খাওয়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ওই কর্মী।
  • ২০২৩ সালের ঈদে তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে নামাজ পড়িয়ে সেই ছবি অফিসের গ্রুপে শেয়ার করে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা হয়।

নারী কর্মীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ

এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; এর আগেই টিসিএস নাসিক শাখার এক মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁকে জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দানিশ শেখ ও তৌসিফ আত্তার সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মহিলা কর্মীর সাহসিকতা দেখেই পরবর্তীতে অন্যান্য কর্মীরা তাঁদের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক সংস্থায় দিনের পর দিন এই ধরনের অমানবিক আচরণ কীভাবে চলল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী কর্মীর দাবি, প্রতিবাদ করলে তাঁকে শারীরিক আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো। এই পুরো ঘটনায় সংস্থার এইচআর (HR) বিভাগের ভূমিকা এবং অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কার্যকারিতা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এক নজরে

  • অভিযুক্ত: টিম লিডার তৌসিফ আত্তার, সহকর্মী দানিশ শেখ ও অন্যান্যরা।
  • মূল অভিযোগ: যৌন হেনস্থা, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিকর বিদ্রূপ এবং জোরপূর্বক ধর্মীয় আচার পালন করানো।
  • শারীরিক নির্যাতন: আমিষ খেতে বাধ্য করা এবং প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি।
  • আইনি ব্যবস্থা: পুলিশ ৯টি মামলা রুজু করেছে এবং কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • ঘটনার স্থান: টিসিএস (TCS), নাসিক শাখা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *