পয়লা বৈশাখেই রণক্ষেত্র বাংলা রাজনীতি! মমতার নিশানায় লাটসাহেব রাজ্যপাল।

বর্তমান ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রাজভবন এবং নবান্নের অম্ল-মধুর সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। তবে পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে রাজ্যপাল আর এন রবি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যে বাক্যবিনিময় শুরু হলো, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জগদীপ ধনখড় বা সিভি আনন্দ বোসের পর বর্তমান রাজ্যপালের সঙ্গেও কি তবে মুখ্যমন্ত্রীর ‘আদায়-কাঁচকলায়’ সম্পর্ক তৈরি হতে যাচ্ছে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

রাজ্যপালের পরিসংখ্যান ও পরিবর্তনের ডাক

লোকভবনে আয়োজিত নববর্ষের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি বাংলার বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তথ্য দিয়ে দাবি করেন যে, ষাটের দশকে ভারতের মোট জিডিপিতে বাংলার অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা বর্তমানে কমে ৫ শতাংশে ঠেকেছে। তাঁর মতে, আশির দশকে যেখানে মাত্র চারটি রাজ্য অর্থনীতির নিরিখে বাংলার আগে ছিল, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। এই পিছিয়ে পড়ার চিত্র তুলে ধরে তিনি রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে ‘পরিবর্তন’ আনার আহ্বান জানান।

পাল্টা আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যপালের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের এক জনসভা থেকে তিনি রাজ্যপালকে ‘লাটসাহেব’ বলে সম্বোধন করে তোপ দাগেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, উৎসবের দিনে মানুষকে শুভেচ্ছা না জানিয়ে রাজ্যপাল তাঁকে আক্রমণ করছেন। তিনি মনে করেন, রাজ্যপালের এই ধরনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আইনশৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের এই সময়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায়ভার রাজ্য সরকারের ওপর চাপানো ঠিক নয়।

সংঘাতের মূল কারণ ও বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যপালের পক্ষ থেকে দেওয়া অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান এবং ‘পরিবর্তনের ডাক’ সরাসরি বর্তমান সরকারের শাসনকালকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, ভোটের আবহে রাজ্যপালের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবেই দেখছে শাসক দল। রবীন্দ্রনারায়ণ রবি দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে সৌহার্দ্যের পরিবেশ দেখা গিয়েছিল, বুধবারের ঘটনার পর তাতে বড়সড় চিড় ধরল বলে মনে করা হচ্ছে।

এক নজরে

  • রাজ্যপালের দাবি: দেশের জিডিপিতে বাংলার অবদান ১০.৬ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে।
  • পরিবর্তনের আহ্বান: তরুণ প্রজন্মকে বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে সক্রিয় হওয়ার ডাক দিয়েছেন রাজ্যপাল।
  • মুখ্যমন্ত্রীর তোপ: রাজ্যপালকে ‘লাটসাহেব’ আখ্যা দিয়ে উৎসবের দিনে গালি দেওয়ার অভিযোগ মমতার।
  • আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ: ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলার দায় কেন্দ্রের ও কমিশনের বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
  • পুরানো স্মৃতি: ধনখড় ও বোসের পর রবির সঙ্গেও নবান্নের সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *