ভাঙড়ে ১৯ প্রার্থী, সামলাতে হিমশিম ইভিএম! সব বুথে ডাবল মেশিন আনছে কমিশন

বর্তমান ডেস্কঃ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্র এক অনন্য এবং জটিল পরিস্থিতির সাক্ষী হতে চলেছে। এই কেন্দ্রে প্রার্থীর সংখ্যা এতোটাই বেশি যে, একটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (EVM) তাদের নাম কুলাচ্ছে না। ফলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভাঙড়ের প্রতিটি বুথে দুটি করে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

ইভিএমের সীমাবদ্ধতা ও ভাঙড়ের বাস্তবতা

প্রযুক্তিগতভাবে একটি ইভিএম বা ব্যালট ইউনিটে সর্বোচ্চ ১৬টি বোতাম থাকে। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর নাম এবং একটি ‘নোটা’ (NOTA) অপশনের জন্য জায়গা বরাদ্দ থাকে। যদি কোনো কেন্দ্রে প্রার্থীর সংখ্যা ১৬ ছাড়িয়ে যায়, তবে সেখানে অতিরিক্ত ব্যালট ইউনিট যুক্ত করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে এবার মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং বাকি ১২ জন নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। ফলে ১৯ জন প্রার্থী ও ১টি নোটা মিলিয়ে মোট ২০টি বোতামের প্রয়োজন। এই কারণেই একটি ইভিএমে প্রথম ১৬ জনের নাম রাখা হবে এবং বাকি ৩ জন প্রার্থী ও নোটা অপশনটি থাকবে দ্বিতীয় মেশিনে।

প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও বাড়তি চাপ

রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র ভাঙড়েই এই জোড়া ইভিএমের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে:

  • সরঞ্জামের আধিক্য: ভাঙড়ে মোট ৩০৪টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথে দুটি করে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) সরবরাহ করতে হচ্ছে।
  • পরিবহন ও সুরক্ষা: দ্বিগুণ সংখ্যক যন্ত্রের নিরাপদ পরিবহন এবং ভোট শেষে স্ট্রংরুমে তা সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, জায়গা বাঁচাতে মেশিনগুলো একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
  • বুথের পরিকাঠামো: অনেক বুথে জায়গা কম থাকায় সেখানে দুটি ইভিএম পাশাপাশি রাখার মতো পর্যাপ্ত স্থান আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।

অতীত ও বর্তমানের প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের কোনো কেন্দ্রেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর ও কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থীর আধিক্যের কারণে জোড়া ইভিএম ব্যবহার করতে হয়েছিল। এবার বিধানসভা স্তরে সেই বিরল নজির গড়ল ভাঙড়। উল্লেখ্য, কোচবিহার দক্ষিণ বা করণদিঘির মতো কেন্দ্রগুলোতে প্রার্থীর সংখ্যা ১৫-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় তারা এই বাড়তি ঝক্কি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ভাঙড়ের এই ‘প্রার্থী বিস্ফোরণ’ স্থানীয় রাজনীতিতে নির্দল প্রার্থীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

এক নজরে

  • কেন্দ্র: ভাঙড় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)।
  • মোট প্রার্থী: ১৯ জন (রাজনৈতিক দল ৭, নির্দল ১২)।
  • মেশিন সংখ্যা: প্রতি বুথে ২ টি ইভিএম।
  • মোট বুথ: ৩০৪ টি।
  • কারণ: একটি ইভিএমে সর্বোচ্চ ১৬টি বোতামের সীমাবদ্ধতা।
  • অতিরিক্ত চাপ: পরিবহন খরচ ও স্ট্রংরুমে সংরক্ষণের জায়গা নিয়ে জটিলতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *