আসল তৃণমূল কার হাতে! দলের সংবিধানে মমতার পাল্লাই ভারী
তৃণমূলের কর্তৃত্ব নিয়ে কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবির, শুরু আইনি লড়াই
বাংলা তথা দেশের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষই পৃথকভাবে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (NWC) গঠন করে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে। কালীঘাট শিবিরের কমিটিতে চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির তাঁকে অপসারিত করে অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপার্সন ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতির ফলে দলের নির্বাচনী প্রতীক এবং ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে তীব্র আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কালীঘাট শিবির এই লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ১২.এ (12.A) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চেয়ারপার্সন নিজেই কমিটির অর্ধেকের বেশি সদস্য মনোনীত করতে পারেন এবং গত ২২ জুন কালীঘাট শিবির তাদের পুনর্গঠিত কমিটির তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে। এছাড়া, ২০২২ সালে নির্বাচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারপার্সন হিসেবে মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬৫ জনের বেশি বিধায়কের সমর্থনের দাবি করলেও, প্রবীণ নেতাদের মতে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বা প্রতিনিধি তলবের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বিদ্রোহীদের এই পদক্ষেপ ত্রুটিপূর্ণ। এখন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উভয় শিবিরকেই নির্বাচন কমিশন ও আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।