ভোট-লুটের অভিযোগে এবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা আর দল সামলাতে কড়া শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কারচুপির অভিযোগে সরব তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হার মেনে নেওয়া তো দূরস্ত, বরং এই ‘জোর করে হারিয়ে দেওয়া’র বিরুদ্ধে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে এক দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১০০ আসনে ‘জোর করে হারানো’র অভিযোগ
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, অন্তত ১০০টি এমন আসন রয়েছে যেখানে তৃণমূল প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে এবং গায়ের জোরে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। গণনার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি ফের প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূল নেত্রীর মতে, এটি কেবল পরাজয় নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘নির্বাচনী লুট’। এই অভিযোগকে হাতিয়ার করেই তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে গোটা দেশের সামনে বাংলার এই ভোটের ফলকে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়।
বেসুরোদের রুখতে পাঁচ সদস্যের ‘গার্ড ফাইল’
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলের ভেতরে যাতে কোনো ভাঙন বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তার জন্য তড়িঘড়ি একটি শক্তিশালী শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন দলের পাঁচ অত্যন্ত বিশ্বস্ত মুখ— ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং অসীমা পাত্র। সম্প্রতি দলের বেশ কয়েকজন নেতা ও কাউন্সিলর যেভাবে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তা দমন করাই এই কমিটির প্রধান কাজ হবে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা বিশ্বাসঘাতকতা বরদাস্ত করা হবে না।
বিধায়কদের জন্য ‘এলাকা পাহারার’ নির্দেশ
জয়ীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, কলকাতায় এসে সময় নষ্ট না করে এই মুহূর্তে নিজের নিজের এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষ ও ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে থাকতে হবে। ভোটের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আসছে, সেই পরিস্থিতিতে বিধায়কদের ময়দানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে সংগঠনকে পুনর্গঠিত করতে মমতা যে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছেন, এদিনের বৈঠক ছিল তারই মহড়া।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।