ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচলে ৫ লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী আর ছাঁটাইয়ের আশঙ্কায় ঘুম উবেছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের
রাজ্যে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এখন সবথেকে বেশি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন কয়েক লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মী। বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ হওয়া এই বিপুল সংখ্যক কর্মীবাহিনী বর্তমানে নিজেদের রুটিরুজি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে ভিলেজ পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এখন একটাই প্রশ্ন করছেন— “নতুন সরকার কি আমাদের চাকরি রাখবে?”
উদ্বেগের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার-সহ বিভিন্ন পদে প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী কর্মরত। এই কর্মীদের নিয়োগ হয়েছিল তৃণমূল সরকারের আমলে। যদিও তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করেছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিতেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে এই বিশাল কর্মীবাহিনীর মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন সরকার প্রশাসনিক স্তরে রদবদল আনতে গিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ‘অস্থায়ী’ কর্মীদের ছাঁটাই করতে পারে। বিশেষ করে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে অতীতে বারবার প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলি, যা এই কর্মীদের ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আতঙ্কের প্রতিধ্বনি
অস্থায়ী কর্মীদের বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটিতে এখন সারাদিন এই আলোচনা চলছে। কেউ লিখছেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম সিদ্ধান্তই কি আমাদের নিয়ে হবে?”, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, “বিজেপি কি তাদের নিজেদের লোকেদের ঢোকানোর জন্য আমাদের সরিয়ে দেবে?” শুধু পুলিশ প্রশাসন নয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও এই উৎকণ্ঠার অংশীদার।
রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ লক্ষ কর্মীকে এক ধাক্কায় ছাঁটাই করা যে কোনো নতুন সরকারের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এর সঙ্গে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবন জড়িয়ে রয়েছে। তবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। বিজেপি নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রচারে স্বচ্ছ নিয়োগের কথা বললেও, বর্তমান চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আশ্বাস বা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়নি। আপাতত ৯ তারিখের শপথগ্রহণের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের এই বিশাল ‘অস্থায়ী’ কর্মীবাহিনী।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।