সারদা মামলায় বিচার বিলম্বিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট সুদীপ্ত সেনের জেলমুক্তি কি সময়ের অপেক্ষা

সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির এক দশক পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকা সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের জামিন মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশ এবং সিবিআই—উভয় পক্ষকেই কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকাল বিচারহীনভাবে আটকে রাখা যায় না। বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে সুদীপ্ত সেনের মুক্তি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শুনানির সময় সুদীপ্ত সেনের আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মোট ৩৮৯টি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁর মক্কেল। এর মধ্যে সিবিআইয়ের হাতে থাকা ৭৬টি মামলার অধিকাংশতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার জটেই তাঁর মুক্তি আটকে রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও অসন্তোষের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • বিস্ময়কর শ্লথগতি: ২০১৪ সালে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও কেন এক দশকে ট্রায়াল বা বিচার শুরু করা যায়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
  • নথি গায়েব: একটি মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় পর তা উদ্ধার হওয়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম নিদর্শন হিসেবে দেখছে হাইকোর্ট।
  • সিবিআই-কে ভর্ৎসনা: ট্রায়াল শেষ করার দায়িত্ব এড়িয়ে শুধু জামিন সংক্রান্ত বিতর্কে অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও রেয়াত করেনি আদালত।

সম্পত্তি বিক্রিতে বড়সড় গরমিল

শুনানির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে সারদার সম্পত্তি বিক্রয় নিয়ে। আদালতে পেশ করা রিপোর্টে দেখা যায়, সংস্থার ৯টি বাংলো এবং একটি ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বাজারমূল্যের তুলনায় এই নগণ্য দামে সম্পত্তি বিক্রি হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত এবং কীভাবে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।

আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর জন্য গঠিত কমিটির কাজের গতি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার আবেদনের মধ্যে মাত্র ৫০০টির নিষ্পত্তি হওয়াকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আদালত মনে করছে, সুদীপ্ত সেন জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া গতি পেতে পারে। আগামী ২৩ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সারদা ও তালুকদার কমিটিকে সম্পত্তির খতিয়ান এবং আমানতকারীদের পাওনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একঝলকে

  • অভিযুক্ত: সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন (১২ বছর ধরে কারাবন্দি)।
  • আদালতের অবস্থান: বিচারহীনভাবে আটকে রাখায় পুলিশ ও সিবিআই-কে ভর্ৎসনা।
  • মামলার পরিসংখ্যান: ৩৮৯টি অভিযোগের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২টি মামলার কারণে সেন জেলে রয়েছেন।
  • বিতর্ক: মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় সারদার ১০টি স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ।
  • পরবর্তী শুনানি: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *