রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ভারতের কি বড় জয়?

বর্তমান ডেস্কঃ

জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত অবস্থান: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারতের মজুদ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা ও মার্কিন প্রশাসনের কড়াকড়ির মুখে ভারত অত্যন্ত চতুরতার সাথে তার জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন রাশিয়া ও ইরানের ওপর থেকে কার্যকর ‘স্যাংশন ওয়েভার’ বা বিশেষ ছাড় না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, তার আগেই ভারত প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। মূলত ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাওয়া সীমিত সময়ের সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি শোধনাগারগুলো তাদের ভাণ্ডার পূর্ণ করে নিয়েছে।

কৌশলগত আমদানি ও লজিস্টিকস সাফল্য

ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, প্রদত্ত বিশেষ ছাড়ের সময় ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। গত মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে ভারতের দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৯৮ মিলিয়ন ব্যারেল, যা ২০২৩ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। একই সাথে, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে ভারত। ‘জয়া’ ও ‘ফেলিসিটি’ নামক বিশাল ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে এই তেল নিরাপদে ভারতের বন্দরে পৌঁছানো ভারতের বড় ধরনের লজিস্টিকস সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূ-রাজনীতি ও আগামীর জ্বালানি নিরাপত্তা

ভারত তার মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এমতাবস্থায় মার্কিন কড়াকড়ি ও ট্যারিফ আরোপের বৈশ্বিক চাপ সামাল দিতে ভারত কেবল বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিক পথেও সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনা ভারতের কৌশলগত দূরদর্শিতারই বহিঃপ্রকাশ। বিশ্লেষকদের মতে, তেল শোধনাগারগুলোর আগাম সতর্কতা এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ববাজারে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আপাতত সুরক্ষিত থাকবে।

এক নজরে

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: রাশিয়া ও ইরানের ওপর থেকে তেলের বিশেষ ছাড় বা ‘জেনারেল লাইসেন্স’ নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
  • ভারতের কৌশল: সুযোগের সদ্ব্যবহার করে রাশিয়া থেকে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল এবং দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে ভারত।
  • কূটনৈতিক তৎপরতা: জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন নেতৃত্বের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত।
  • স্থিতিশীলতা: আগাম মজুদ ও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের মুখেও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বড় কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *