মাঝপথে টিউশন বন্ধ, বিপাকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা!

রাজ্য সরকারের কঠোর নির্দেশিকায় সরকারি স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন পড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কালনার অসংখ্য শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। গত ৪ জুন স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টরের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নিয়ম অমান্য করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি এই নির্দেশের ফলে চাকরি হারানোর ভয়ে শিক্ষকরা তড়িঘড়ি টিউশন পড়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে আসন্ন বোর্ড পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতিপর্বে বড়সড় বিঘ্ন ঘটেছে।

গ্রামীণ এলাকায় ভালো কোচিং সেন্টারের অভাব এবং হঠাৎ শিক্ষক পরিবর্তনের বাস্তব সমস্যার কারণে অভিভাবক ও পড়ুয়ারা ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অভিভাবকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি চিকিৎসকদের মতো শিক্ষকদের কেন প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকবে না এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার অধিকার আইন প্রযোজ্য হলেও কেন উচ্চতর শ্রেণির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে অনেক অভিভাবক অন্তত বর্তমান শিক্ষাবর্ষের জন্য নিয়ম শিথিল করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষাবিদদের একাংশ শিক্ষার্থীদের স্কুলে শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি পাঠ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন এবং স্কুলের পঠন-পাঠনের দিন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে প্রধান শিক্ষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *