মমতার তোপ! মোদীর ভাষণে ভীষণ দ্বিচারিতা!

নারী সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত: মোদীকে আক্রমণ মমতার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করেছে। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘ভীতিপ্রসূত’ এবং ‘দ্বিচারিতাপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি আক্রমণ করেন। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে তৃণমূল কংগ্রেস কখনও এই বিলের বিরোধিতা করেনি। বরং, দলের নারী প্রতিনিধিত্বের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার নারী সংরক্ষণের আড়ালে ‘ডিলিমিটেশন’ বা জনবিন্যাস অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এটি দেশের ফেডারেল কাঠামো এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে। এছাড়াও, ২০২৩ সালে বিল পাশ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর কেন তা কার্যকর করা হয়নি এবং নির্বাচনের ঠিক আগেই কেন এই ইস্যুকে সামনে আনা হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, শনিবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলিকে নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর না করার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধীরা সংকীর্ণ রাজনীতির কারণে মহিলাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। এর বিপরীতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের লোকসভায় ৩৭.৯ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ মহিলা সদস্যের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। ভোটমুখী একাধিক রাজ্যে এই বাকযুদ্ধ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *