ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি তুচ্ছ! হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দাপট, তবে কি মার্কিন নৌবাহিনী কেবল নামেই শক্তিশালী?
বর্তমান ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের শক্তির জানান দিল ইরান। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ইরানি তেলের ট্যাংকারের সফল যাত্রা ও ট্রাম্পের চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো এমনভাবে অবরুদ্ধ করবে যাতে কোনো জাহাজ সেখান থেকে বের হতে বা প্রবেশ করতে না পারে। ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। এমনকি নিয়ম ভঙ্গ করলে ইরানি জাহাজ বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই হুমকির পরদিনই চিত্রটি বদলে যায়। ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বিশাল সুপার ট্যাংকার ‘ইমাম খোমেনি’ কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে স্বদেশের উপকূলে পৌঁছেছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, কেবল ইরানের জাহাজই নয়, চীনের ‘রিচ স্টারি’-এর মতো বাণিজ্যিক জাহাজগুলোও মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করছে।
নেট দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় ও আমেরিকার পাল্টা পদক্ষেপ
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী দাবি করা মার্কিন সেনাদের এমন নিস্পৃহতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলের শিকার হতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন, মার্কিন নেভি কি তবে কেবল ‘ডামি’ হিসেবে কাজ করছে? পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন বলছে, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের কৌশল
মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ইরান মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
- বিশাল সীমান্ত ও বিকল্প পথ: ৮,০০০ কিলোমিটারের বেশি স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত থাকায় ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা প্রায় আসাম্ভব।
- মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল: আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ইরান ইতোমধ্যে বিকল্প বাণিজ্য পথ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছে।
- সামরিক প্রস্তুতি: ওমান সাগর এবং পারস্য উপসাগরে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ইরানের সামরিক বাহিনী।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এই অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন দ্বিমুখী চাপের মুখে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই অবাধ বিচরণ বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে বিশ্লেষকদের।
এক নজরে
- ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অমান্য করে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সুপার ট্যাংকারের সফল প্রবেশ।
- মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ গলে চীনের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোরও স্বাভাবিক চলাচল।
- ব্যর্থতার দায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা।
- মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা।
- অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় বিকল্প বাণিজ্য পথ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।