কুকুর কামড়ায়নি, শুধু নখের আঁচড়! অবহেলায় প্রাণ গেল গৃহবধূর?

বর্তমান ডেস্কঃ

তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার ওট্টাপিডরাম এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে পশুপ্রেমীদের। নিজের পোষা কুকুরের সামান্য আঁচড়কে গুরুত্ব না দেওয়ায় জলাতঙ্ক বা র্যাবিস রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী গৃহবধূ। এই ঘটনাটি প্রমাণ করেছে যে, কেবল কুকুরের কামড় নয়, নখের আঁচড়ও মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত ও অবহেলার পরিণাম

থুথুকুডি জেলার সিলানকুলাম গ্রামের বাসিন্দা সুమতি প্রাণীদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। বাড়িতে একটি ছোট কুকুরছানা পুষতেন তিনি। প্রায় এক মাস আগে কুকুরছানাটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন কুকুরটি সুমতির কাঁধে নখ দিয়ে আঁচড় দেয়।

অনেকের মধ্যেই এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, কুকুর কামড়ালে তবেই টিকা নিতে হয়, আঁচড় দিলে নয়। সুমতিও ঠিক একই ধারণা থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তার বিশ্বাস ছিল পোষা কুকুরটিকে আগে থেকেই ভ্যাকসিন দেওয়া আছে, তাই নিজের জন্য ‘অ্যান্টি-র্যাবিস’ ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো ধরনের চিকিৎসা না নিয়েই তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।

প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা র্যাবিস লক্ষণ

প্রায় এক মাস পর হঠাৎ করে সুমতির শরীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তার মধ্যে হাইড্রোফোবিয়া বা জলভীতি এবং খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে থুথুকুডি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, র্যাবিস ভাইরাস তার স্নায়ুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নখের আঁচড় কেন বিপজ্জনক

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের কামড় ছাড়াও আঁচড় থেকে র্যাবিস হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। কুকুর বা বিড়াল প্রায়ই নিজেদের শরীরের বিভিন্ন অংশ জিভ দিয়ে চাটে। এর ফলে তাদের লালা (Saliva) নখের ওপর লেগে থাকে। যখন সেই নখ দিয়ে মানুষের শরীরে আঁচড় লাগে, তখন লালায় থাকা ভাইরাস সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার সুযোগ পায়। সুমতির ক্ষেত্রেও এই অসতর্কতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

পশুপ্রেমীদের জন্য এই ঘটনা একটি বড় সতর্কবার্তা। চিকিৎসকরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন:

  • পোষা বা রাস্তার যে কোনো প্রাণী আঁচড় দিলে বা কামড়ালে আক্রান্ত স্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট ধরে প্রবাহিত পরিষ্কার জল এবং সাবান দিয়ে ধুতে হবে।
  • ক্ষত ছোট হোক বা বড়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
  • পোষা প্রাণীর ভ্যাকসিন দেওয়া থাকলেও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।

এক নজরে

  • নাম: সুমতি (৪৭)
  • স্থান: সিলানকুলাম গ্রাম, থুথুকুডি।
  • কারণ: কুকুরের নখের আঁচড় থেকে র্যাবিস সংক্রমণ।
  • উপসর্গ: হাইড্রোফোবিয়া (জলভীতি) ও খাবারে অনীহা।
  • মূল শিক্ষা: কামড় বা আঁচড় যে কোনো ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *