চতুর্থবার জয়ের হাতছানি! ‘বাংলা জয়ের পর লক্ষ্য দিল্লি’, গণনার সকালে বিজেপিকে কড়া বার্তা মমতার
কলকাতা: আজ ৪ মে, ২০২৬। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্যনির্ধারণী দিন। সকাল থেকেই শুরু হবে ভোটগণনা। তবে ফলাফল আসার আগেই জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলায় চতুর্থবার সরকার গঠন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আর এই জয়ের পরেই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হতে চলেছে দিল্লির মসনদ।
গণনাকেন্দ্রে সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ
তৃণমূল শিবিরের আশঙ্কা, ফলাফল বিপক্ষে যেতে দেখলে বিজেপি ইভিএম কারচুপি বা গণনায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত এজেন্টদের প্রতি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ভবানীপুর এলাকার কাউন্সিলর ও কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনায় তিনি বেশ কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন:
- কারচুপিতে নজর: ইভিএম বদলানো বা গণনার সময় আচমকা ‘লোডশেডিং’ করানো হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।
- হিসাবে গরমিল: তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট গণনার সময় যেন কোনওভাবেই হিসাবে গরমিল না করা হয়।
- ধৈর্য ও লড়াই: বিজেপি প্রভাবিত এলাকার বুথগুলি আগে গণনা করে ভয়ের পরিবেশ তৈরির বা প্রক্রিয়া ধীর করার চেষ্টা হতে পারে, সেক্ষেত্রে কর্মীদের ধৈর্য ধরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দিল্লি চলোর ডাক
ঘনিষ্ঠ মহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই জয় কেবল বাংলার জয় নয়, বরং এটি দেশের রাজনীতির মোড় ঘোরানোর সন্ধিক্ষণ। তাঁর কথায়, “গেরুয়া উত্তরীয় গলায় জড়িয়ে যাঁরা বাংলার মানুষের চোখের জল ফেলেছে, আজ ওরা জবাব পাবেই।” বাংলার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই বিজেপিকে দিল্লির মসনদ থেকে হটাতে তৃণমূল নতুন করে লড়াই শুরু করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বাংলা জয়ের পরের লক্ষ্য দিল্লি। বাংলাই পথ দেখাবে।”
অভিষেকের ‘ওয়ার রুম’ ও ছাত্র-যুবদের সক্রিয়তা
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আজ ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই সক্রিয় হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের রাজ্য ও জেলাস্তরের ‘ওয়ার রুম’ বা কন্ট্রোল রুমগুলি। গণনাকেন্দ্রের বাইরে ২০০ মিটারের গণ্ডি ছাড়িয়ে তৃণমূলের ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনের কর্মীদের জমায়েত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি কোথাও অন্যায়ভাবে কাউন্টিং এজেন্টদের বাধা দেয়, তবে গণতান্ত্রিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতিও সেরে রেখেছে ঘাসফুল শিবির।
বঙ্গবাসীর রায়ের অপেক্ষা
২০২১ এবং ২০২৪ সালের পর এবার ২০২৬-এও কি বুথফেরত সমীক্ষাকে ভুল প্রমাণ করে ফের নবান্নে ফিরবেন মমতা? নাকি বাংলার রায়ে অন্য কোনও সমীকরণ তৈরি হবে? আজ দুপুরের মধ্যেই সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে গণনার ঠিক আগে মমতার এই আত্মবিশ্বাসী সুর রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্র যোগ করেছে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।