জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওয়ার্ক ফ্রম হোম আরজি, ফিরছে কি লকডাউনের স্মৃতি!
করোনাকালের সেই ঘরবন্দি দিনগুলোর স্মৃতি উসকে দিয়ে দেশবাসীকে আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি জোগানের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ আর্জি। তবে হঠাৎ এই পরামর্শে জনমানসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশ আবারও কোনও বড়সড় বিধিনিষেধ বা লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে?
জ্বালানি সাশ্রয়ে কড়া পদক্ষেপের বার্তা
প্রধানমন্ত্রী কেবল চাকুরিজীবীদেরই নয়, বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও জ্বালানি সাশ্রয়ের এই লড়াইয়ে শামিল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। স্কুলের যাতায়াতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাঁচাতে কিছুদিনের জন্য অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করার কথা বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা ভারতের জাতীয় অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই বার্তাকে কেন্দ্র করেই সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনা বাড়ছে যে, সরকার কি তবে পরোক্ষভাবে যাতায়াতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছে?
সংকট মোকাবিলায় নতুন কৌশল
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা আদতে কোনও লকডাউনের ইঙ্গিত নয়, বরং একটি আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে ওঠানামা করছে, তাতে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে বড়সড় অর্থনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হতে পারে। সেই প্রভাব কমাতে আগেভাগেই কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিতে চাইছে কেন্দ্র। করোনাকালের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে ব্যবহার করে কীভাবে স্বাভাবিক জনজীবন সচল রেখেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা যায়, সেই কৌশলই নিতে চাইছে মোদী সরকার। তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশ এই পদক্ষেপকে সম্ভাব্য কঠোর বিধিনিষেধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।