দল নয় বরং শাসন করবে সংবিধান, শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে জল্পনা!
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রথম বিজেপি সরকারের কাজ শুরু হতেই এক তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করলেন দলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার সকালে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানান যে, এই প্রশাসন কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের লেজুড় হয়ে থাকবে না। শমীকের কথায়, “এই সরকার বিজেপি সরকার হবে না, এটি হবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি করেছে।
দল ও সরকারের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন
শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়মে এবং সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই পরিচালিত হবে। প্রশাসনিক কাজে দলের সরাসরি হস্তক্ষেপ যে কাঙ্ক্ষিত নয়, সেই বার্তাই এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনের আগে বিজেপির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বা ‘সংকল্পপত্র’ যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে দলের একটি নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করা হবে। মূলত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ নিশ্চিত করতেই এই যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।
নতুন জমানার প্রশাসনিক কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর প্রশাসনিক কৌশল। বিগত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দল ও সরকারের মিশে যাওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে একটি পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি গড়তে চাইছে নতুন সরকার। সরকার কোনও নির্দিষ্ট দলের নয় বরং রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের— এই বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই জনমানসে আস্থা বৃদ্ধি করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে সংকল্পপত্র রূপায়নের কথা বলে শুভেন্দু সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, উন্নয়নের প্রশ্নে তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে এক চুলও নড়বে না। প্রথম দিনেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন ভারসাম্যমূলক অবস্থান আগামীর নতুন কর্মসংস্কৃতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।