ফালৌদির সাট্টা বাজারে বড়সড় উলটপুরাণ, নবান্ন দখলের লড়াইয়ে তৃণমূলকে ছাপিয়ে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারে বিজেপি!
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক আগের মুহূর্তে রাজস্থানের বিখ্যাত ফালৌদি ‘সাট্টা বাজার’ তাদের আগের সমস্ত পূর্বাভাস বদলে দিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষার (এগজিট পোল) ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে করা এই সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার বাংলায় ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কয়েক মাস আগে পর্যন্ত যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল, সেখানে এখন পাল্লা ভারী হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। ফালৌদির বুকিদের মতে, এবারের লড়াই এতটাই হাড্ডাহাড্ডি যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্নায়ুর লড়াই চলবে।
রেকর্ড ভোটদান ও পাল্টে যাওয়া আসনের অঙ্ক
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার বাংলায় প্রায় ৯২ শতাংশের কাছাকাছি রেকর্ড ভোট পড়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল। সাট্টা বাজারের বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জন অংশগ্রহণ সাধারণত সরকার বিরোধী হাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৫২টি আসন, যা ম্যাজিক ফিগার ১৪৮-এর গণ্ডি পার করার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে, টানা তিনবারের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ১৩৭ থেকে ১৪০টি আসনেই আটকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ভোটের প্রথম দফার পর বুকিরা তৃণমূলকে ১৫৮-১৬১টি আসন দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে।
ভবানীপুরে টক্কর ও সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব
ফালৌদি বাজারের নজর কেড়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরও। সেখানে তাঁর জয়ের ‘দর’ বা দরদাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে, যা সাট্টা বাজারের ভাষায় প্রার্থীর কিছুটা দুর্বল অবস্থানের সংকেত। এই পূর্বাভাস যদি ৪ মে-র চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হয়, তবে গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি, সন্দেশখালি কিংবা সাম্প্রতিক আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলেছে। সাট্টা বাজারের এই সংশোধিত চিত্রটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যদিও চূড়ান্ত রায় এখনও ইভিএম-এর ভেতর বন্দি।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।