‘৪ তারিখের পর দেখে নেব’, ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও মারধর!
আগামীকাল সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার ঠিক আগের রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার ইটখোলা অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। মধুখালী এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে রাতের অন্ধকারে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আক্রান্তদের দাবি, প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি তাঁদের ওপর নৃশংসভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোট গণনার আগের মুহূর্তেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে ক্যানিংয়ে।
হামলার ভয়াবহতা ও হুমকির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ সর্দার ও তাঁর অনুগামীদের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয়। লাঠি, রড ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে দীপিকা নস্কর ও কবির কৃষ্ণ হালদারসহ একাধিক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি শূন্যে গুলি চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন আক্রান্তরা। অভিযোগ উঠেছে যে, আক্রমণকারীরা যাওয়ার সময় ‘৪ তারিখের পর দেখে নেওয়া হবে’ বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় বেশ কয়েকজন কর্মীকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও পুলিশের সক্রিয়তা
বিজেপির অভিযোগ, গণনার দিন যাতে তাঁদের কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের জেলা নেতৃত্ব। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির সাজানো নাটক বলে দাবি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং এলাকায় টহল শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলেও গুলি চালানোর বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকা থমথমে থাকায় মোতায়েন রাখা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।