গণনার আগে বারাকপুরে ধুন্ধুমার! বিজেপি নেতাকে ‘খুনের চেষ্টা’, অর্জুনের নিশানায় তৃণমূল
আগামীকাল ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে ফের উত্তপ্ত বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক কুন্দন সিংকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তুলেছেন বারাকপুরের হেভিওয়েট নেতা অর্জুন সিং।
নোয়াপাড়ায় ‘খুনের চেষ্টা’
অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, নোয়াপাড়া এলাকায় কুন্দন সিংয়ের বাড়িতে চড়াও হয় দুই দুষ্কৃতী। তাঁর দাবি, আমন এবং আকাশ চৌধুরী নামে দুই দাগি অপরাধী কুন্দনের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য বিজেপি নেতা রক্ষা পেলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অর্জুন সিংয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, এই দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় পুষ্ট এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করাই এদের মূল লক্ষ্য।
কমিশন ও রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অর্জুন সিং ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং রাজ্যপালকে ট্যাগ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন:
- ভয় দেখানোর কৌশল: ৪ মে-র মহাগণনার আগে বিজেপি কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাঁদের এজেন্ট হিসেবে বসতে বাধা দিতেই এই পরিকল্পিত হামলা।
- গ্রেফতারির দাবি: অভিযুক্ত আমন ও আকাশ চৌধুরীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন তিনি।
এলাকায় চাপা উত্তেজনা
এই হামলার ঘটনার পর থেকেই নোয়াপাড়া সহ গোটা বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা জুড়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচন পরবর্তী হিংসার আবহ বজায় রাখতেই শাসক দল দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করছে। যদিও তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে গণনার ঠিক আগের রাতে বারাকপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরণের ঘটনা প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।