রাত পোহালেই মহারণ! ৯২ শতাংশ ভোট আর পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরায় কার দখলে যাবে নবান্ন?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন নির্বাচনের সাক্ষী থাকল ২০২৬ সাল। রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটদান এবং আগাগোড়া হিংসামুক্ত নির্বাচন— এই দুই বিশেষত্বই সোমবারের ভোটগণনাকে এক চরম উত্তেজনার জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসন বনাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে থাকা বিজেপির মধ্যেকার এই স্নায়ুযুদ্ধে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে বেশ কিছু ‘এক্স ফ্যাক্টর’।

রেকর্ড ভোটদান ও জনবিন্যাসের সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে ৯২ শতাংশ ভোট পড়ার ঘটনা স্বাধীনতার পর সব রেকর্ড ম্লান করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি ফিরে ভোটদান এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানের মূল কারণ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে গ্রামীণ ও শহুরে ভোটারদের ভিন্ন ভিন্ন মেরুকরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটার, তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জনবিন্যাসের এই সূক্ষ্ম পার্থক্য দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।

তৃণমূলের দুর্গ বনাম বিজেপির হাতিয়ার

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ভরসা হলো তাদের শক্তিশালী বুথভিত্তিক সংগঠন এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘কন্যাশ্রী’র মতো আকাশছোঁয়া জনপ্রিয় জনমুখী প্রকল্প। বিশেষ করে জঙ্গলমহলে হারানো জমি উদ্ধার এবং মহিলাদের বড় অংশের সমর্থন শাসকদলকে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

অন্যদিকে, বিজেপি মূলধন করেছে ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে। আরজি কর বা কসবা ল কলেজের মতো ঘটনায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও শহুরে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। এছাড়াও নিয়োগ দুর্নীতি, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল এবং আলু চাষিদের অসন্তোষ বিজেপির পালে হাওয়া জুগিয়েছে। মুর্শিদাবাদ বা বেলডাঙার মতো ঘটনার জেরে হওয়া রাজনৈতিক মেরুকরণও পদ্ম শিবিরের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে যে বিষয়গুলো

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়া এই ভোটের সবচেয়ে বড় প্রভাবক হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষোভ বা সমর্থন ভোটের বাক্সে বড় রদবদল ঘটাতে সক্ষম। এর পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কতটা ভোট কাটতে পারল, তার ওপরেও অনেক আসনের হার-জিত নির্ভর করছে। বেকার ভাতা ও দ্রুত নিয়োগের মতো বিজেপির প্রতিশ্রুতিগুলো তরুণ প্রজন্মের মনে কতটা রেখাপাত করেছে, তার উত্তর মিলবে সোমবার বিকেলের মধ্যেই। কাল সকাল থেকেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে কি ‘প্রত্যাবর্তন’ হবে নাকি ‘পরিবর্তন’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *