৬০ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সেই ভয়ংকর নরখাদক!

বর্তমান ডেস্কঃ

নরভক্ষক হিসেবে পরিচিত টায়রি স্মিথের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি: জনমনে আতঙ্ক

কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অপরাধ ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস ও পৈশাচিক অধ্যায়ের হোতা টায়রি স্মিথ দীর্ঘ ১৬ বছর পর কারামুক্ত হয়েছেন। ২০১১ সালে ব্রিজপোর্টে একজন গৃহহীন ব্যক্তিকে কুড়াল দিয়ে হত্যার পর তার দেহাংশ খাওয়ার মতো বীভৎস অপরাধে অভিযুক্ত স্মিথকে সে সময় চিকিৎসার জন্য হোয়াইটিং ফরেনসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাইকিয়াট্রিক সিকিউরিটি রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালে এসে তিনি শর্তসাপেক্ষে লোকালয়ে ফিরে এলেন। তার এই মুক্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিতর্ক
হত্যাকাণ্ডের সময় স্মিথ ‘স্কিজোফ্রেনিয়া’ নামক জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। দীর্ঘ সময় চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের দাবি, বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক আচারণ করছেন এবং ওষুধের মাধ্যমে তার মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মতে, বন্দি থাকাকালীন সময়ে সহবন্দিদের সঙ্গে স্মিথের সহিংস আচরণের ইতিহাস উদ্বেগের বড় কারণ। ক্ষমা প্রার্থনার পরও তার এই মুক্তি সমাজ কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও সামাজিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কঠোর নজরদারি ও থেরাপির অধীনে থাকলেও, এই নজিরবিহীন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এখন কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এক নজরে

  • অপরাধের প্রেক্ষাপট: ২০১১ সালে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে হত্যার পর ভুক্তভোগীর মগজ ও চোখ খাওয়ার মতো নারকীয় ঘটনা ঘটান টায়রি স্মিথ।
  • আইনি অবস্থান: গুরুতর মানসিক অসুস্থতার কারণে তৎকালীন আদালত তাকে দোষী না করে ৬০ বছরের চিকিৎসা হেফাজতের নির্দেশ প্রদান করে।
  • বর্তমান অবস্থা: দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে তিনি কঠোর নজরদারিতে লোকালয়ে ফিরেছেন।
  • জনপ্রতিক্রিয়া: বন্দি জীবনেও সহিংস আচরণের রেকর্ড থাকায় স্মিথের মুক্তিতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত ব্যাপক উদ্বেগ বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *