সংসদে মহা-ধামাকা, ৮৫০ আসনে ঐতিহাসিক মহিলা সংরক্ষণ!

বর্তমান ডেস্কঃ

সংসদের বিশেষ অধিবেশনের শুরুতেই এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। বৃহস্পতিবার লোকসভায় বহুল আলোচিত সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল পেশ করা হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে ভারতের সংসদীয় কাঠামো এবং নির্বাচনী মানচিত্রে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি উত্থাপন করেন।

ঐতিহাসিক আসন বৃদ্ধি ও পরিবর্তনের লক্ষ্য

প্রস্তাবিত নতুন বিল অনুযায়ী, লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য ৮১৫টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বাকি আসনগুলি নির্ধারিত হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হয়ে আসলেও, নতুন প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। মূলত জনসংখ্যার সঠিক অনুপাত বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অসাম্য দূর করতেই এই উদ্যোগ।

মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন কমিশনের ভূমিকা

কেন্দ্রের দাবি, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ বা মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতে এই আসন পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য। আসন সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে বর্তমান কাঠামোতে এই সংরক্ষণ প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়বে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটি নতুন ‘ডিলিমিটেশন কমিশন’ গঠন করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে এই শক্তিশালী কমিশন গঠিত হবে, যারা নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা পুনরায় নির্ধারণ করবেন।

বিরোধীদের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বিতর্ক

বিলটি পেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে। কংগ্রেস নেতা কেসি ভেনুগোপাল একে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জনগণনা ও জাতিগণনা শেষ হওয়ার আগেই কেন এই বিল আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বিলের কপি পুড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিরোধীদের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ২০২৭ সালেই পরবর্তী আদমশুমারি ও জাতিগণনা সম্পন্ন হবে এবং মহিলাদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই বিল আনা হয়েছে।

এক নজরে

  • বিলের নাম: সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬।
  • আসন পরিবর্তন: লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব।
  • ভিত্তি বছর: ১৯৭১-এর পরিবর্তে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস।
  • মূল উদ্দেশ্য: লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা।
  • কমিশন গঠন: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনারদের সমন্বয়ে সীমানা নির্ধারণ কমিটি গঠন।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: ২০২৭ সালে দেশজুড়ে নতুন করে আদমসুমারি ও জাতিগণনা পরিচালনার পরিকল্পনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *