স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তির প্রকৃত মালিক কে, স্ত্রী নাকি মা?
বর্তমান ডেস্কঃ
হিন্দু উত্তরাধিকার আইন: সম্পত্তির অধিকার নিয়ে মা ও স্ত্রীর অবস্থান
কোনো ব্যক্তি উইল বা অসিয়তনামা না রেখে মারা গেলে তার অর্জিত সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবারে প্রায়ই জটিলতা তৈরি হয়। হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬-এর ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এক্ষেত্রে আইন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার মা এবং স্ত্রী—উভয়ই ‘প্রথম শ্রেণির ওয়ারিশ’ বা প্রথম সারির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন। আইনি অজ্ঞতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মায়েদের তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ ও অনিয়ম।
উত্তরাধিকার ও বণ্টনের আইনি বিধি
হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির সন্তান, স্ত্রী এবং মা—এই তিনপক্ষই সমানভাবে সম্পত্তির অংশীদার হওয়ার যোগ্য। যদি কোনো ব্যক্তি উইল না করে মারা যান, তবে তার সম্পত্তি উল্লিখিতদের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টিত হবে। অর্থাৎ, স্ত্রী বা সন্তানরা যতটুকু অংশ পাবেন, মা-ও ঠিক ততটুকুই পাওয়ার আইনি অধিকার রাখেন। তবে মৃত ব্যক্তি যদি অবিবাহিত হন, সেক্ষেত্রে প্রথম উত্তরাধিকারী হিসেবে মা এবং মা জীবিত না থাকলে পিতা সম্পত্তির মালিকানা লাভ করেন।
সচেতনতা ও এর প্রভাব
পারিবারিক জটিলতা এড়াতে এবং মায়েদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনি সচেতনতার বিকল্প নেই। অনেক রক্ষণশীল সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণার কারণে মায়েরা সঠিক আইনি পরামর্শ পান না। অথচ আইন মায়েদের এই অধিকারকে সুরক্ষিত করেছে এবং বঞ্চিত হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রেখেছে। সঠিক আইনি প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পরিবারগুলোতে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অনেকাংশেই কমে আসবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
এক নজরে
- উইলের প্রাধান্য: মৃত ব্যক্তি উইল করে গেলে সেই অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টিত হবে।
- সমান বণ্টন: উইলবিহীন অবস্থায় মা, স্ত্রী ও সন্তানরা সম্পত্তির সমান অংশীদার।
- মায়ের অগ্রাধিকার: হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী মা প্রথম শ্রেণির আইনি ওয়ারিশ।
- আইনি সুরক্ষা: অধিকার বঞ্চিত হলে মা আইন অনুযায়ী আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন।