সিউড়িতে নজিরবিহীন সৌজন্য! তৃণমূল কার্যালয় থেকে বিজেপির পতাকা সরালেন জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ
সিউড়ি ৬ মে, ২০২৬। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসা আর কার্যালয় দখলের খবর আসছে, ঠিক তখনই বীরভূমের সিউড়িতে এক ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল। নজিরবিহীন সৌজন্যের নজির গড়লেন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। নিজের দলের কর্মীদের ‘অতি-উচ্ছ্বাস’ থামাতে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে সরাসরি তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছে গেলেন তিনি।
সিউড়িতে রাজনৈতিক উত্তাপ
মঙ্গলবার রাত থেকেই সিউড়ির বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিল ও বাইক বাহিনীর দাপট শুরু হয়। অভিযোগ, সিউড়ির একটি তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় একদল বিজেপি সমর্থক। সেখানে থাকা তৃণমূলের দলীয় পতাকা খুলে ফেলে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কার্যালয়ের সামনে থাকা ঘাসফুল শিবিরের একাধিক ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
মাঠে নামলেন জয়ী প্রার্থী
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আর দেরি করেননি সিউড়ির নতুন বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। উত্তেজনা প্রশমিত করতে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দলীয় কর্মীদের এই কাজকে বিন্দুমাত্র সমর্থন না করে উল্টে কড়া মনোভাব দেখান তিনি। এরপর নিজের উপস্থিতিতেই তৃণমূল কার্যালয়ের গায়ে লাগানো বিজেপির পতাকাগুলো নিজ হাতে বা কর্মীদের দিয়ে খুলিয়ে দেন তিনি। কর্মীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জয় মানেই অন্য দলের কার্যালয় দখল বা অসম্মান করা নয়।
অশান্তির মাঝে শান্তির বার্তা
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যেখানে বীরভূমের অন্য প্রান্তগুলো রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত, সেখানে সিউড়ির জয়ী প্রার্থীর এই ‘পলিটিক্যাল কার্টসি’ বা রাজনৈতিক সৌজন্য এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। জগন্নাথের দাবি, তিনি চান সিউড়িতে শান্তির পরিবেশ বজায় থাকুক এবং কোনওভাবেই যেন হিংসার রাজনীতি প্রশ্রয় না পায়। নির্বাচনের লড়াই কেবল ইভিএম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও এই পদক্ষেপের পর কিছুটা নরম সুর শোনা গিয়েছে। তবে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে, সিউড়ির এই ‘সৌজন্য’ এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদক বর্তমান ঠাকুর।