সমুদ্রের মাঝে মারণ ভাইরাসের থাবা ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসে ৩ পর্যটকের মৃত্যু
আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে বিলাসবহুল ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উত্তরোত্তর এই ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়ে ৩ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বিরল কিন্তু অত্যন্ত ভয়াবহ এই ভাইরাস নিয়ে এবার কড়া সতর্কবার্তা জারি করছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।
এমভি হন্ডিয়াস এবং মারণ ভাইরাসের দাপট
ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘এমভি হন্ডিয়াস’ (MV Hondius) নামক একটি পোলার ক্রুজ শিপে। জাহাজটি আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের দিকে যাচ্ছিল। মাঝ সমুদ্রে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং জ্বরের লক্ষণ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, মোট ৭ জনের মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গেলেও ৩ জন ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে জাহাজটি কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোভিডের চেয়েও ভয়ঙ্কর হান্টাভাইরাস?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের হারের দিক থেকে কোভিড-১৯ এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুর হারের (Fatality Rate) নিরিখে হান্টাভাইরাস অনেক বেশি প্রাণঘাতী। যেখানে কোভিডের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, সেখানে হান্টাভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দ্রুত নষ্ট করে দেওয়া এবং রক্তচাপ কমিয়ে দেওয়াই এই ভাইরাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবেও অভিহিত করছেন অনেকে।
সংক্রমণের উৎস ও লক্ষণ
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় বন্য প্রাণীর লালা, মল বা মূত্র থেকে ছড়ায়। জাহাজের মতো বদ্ধ পরিবেশে যেখানে বাতাস চলাচলের জায়গা কম, সেখানে এই ভাইরাসের কণা নিশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো:
- তীব্র জ্বর এবং পেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা।
- বমি ভাব এবং পেটে ব্যথা।
- দ্রুত শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া এবং নিউমোনিয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সাধারণত কোভিডের মতো মানুষ থেকে মানুষে খুব দ্রুত ছড়ায় না, তবে দক্ষিণ আমেরিকার ‘আন্দিজ স্ট্রেন’ (Andes Strain)-এর ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কিছু নজির রয়েছে। জাহাজের স্টোর রুম বা কেবিনের কোণে ইঁদুরের উপস্থিতি রুখতে এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এই ভাইরাসের এখনও কোনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা সঠিক চিকিৎসা নেই, তাই শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
আটলান্টিকের এই ঘটনা বিশ্বের পর্যটন শিল্প এবং বিশেষ করে ক্রুজ লাইনারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।