সংসদে বড় চমক, ৮৫০ আসনে বাড়ছে আসন সংখ্যা! ২০২৯-এই আসছে বহু প্রতীক্ষিত নারী সংরক্ষণ?
বর্তমান ডেস্কঃ
ভারতের সংসদীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৬ এপ্রিল সংসদে পেশ হতে চলেছে বহুল চর্চিত ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬। ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া কয়েক দশক ধরে স্থগিত থাকলেও, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘সংবিধান (একত্রিশ তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ এবং ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী বিল), ২০২৬’-এর মাধ্যমে এই বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডিলিমিটেশন বিল কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লোকসভা ও বিধানসভা আসনগুলোর সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনসংখ্যা পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি নাগরিকের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন এই কাজ সম্পন্ন করে, যার প্রধান হিসেবে থাকেন সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন কোনো বিচারপতি। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় এবং একে কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।
লোকসভায় বড় রদবদল ও নারী সংরক্ষণ
প্রস্তাবিত এই বিলে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলোর জন্য ৮১৫টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য ৩৫টি আসন বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই তোড়জোড়। নতুন এই বিল অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হতে পারে, যাতে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী লোকসভা ভোটেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বিলে থাকা বিশেষ কিছু বিধান
- আসন বৃদ্ধি: সংসদীয় আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
- আইনি কবচ: ডিলিমিটেশন কমিশনের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে আইনি চ্যালেঞ্জ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।
- জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ: পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) যদি ভবিষ্যতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সেখানেও নির্বাচন পরিচালনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতের উদ্বেগের কারণ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
কেন্দ্রের এই পরিকল্পনায় সবথেকে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো। কেরল, তামিলনাড়ু বা অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো গত কয়েক দশকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। যদি আসন সংখ্যা নিছক জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাড়ানো হয়, তবে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আশঙ্কা, পরিবার পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেও রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন।
এক নজরে
- বিল পেশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, সংসদের বিশেষ অধিবেশনে।
- আসন সংখ্যা: ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব।
- লক্ষ্য: ২০২৯ সালের নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
- কমিশন: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত হবে।
- উদ্বেগ: আসন পুনর্বিন্যাসে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা।