লাহোরে খতম লস্কর-কর্তা হামজা! ভারতের নিশানায় কি তবে পাক ডেরা?

বর্তমান ডেস্কঃ

লাহোরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীর গুলিতে আহত লস্কর প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা

লাহোরের রাজপথে ফের রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটল। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ নেতা আমির হামজাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালিয়েছে একদল অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী। লাহোরে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসের বাইরে এই হামলার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। উল্লেখ্য, গত এক বছরের ব্যবধানে এটি তাঁর ওপর দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলা।

সন্ত্রাসের মূলে আমির হামজা
আশির দশকে আফগান যুদ্ধের সময় থেকে হাফিজ সইদের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত আমির হামজা। ২০০৫ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে (আইআইএসসি) ভয়াবহ হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম তিনি। লস্কর-ই-তৈবার প্রচার বিভাগের প্রধান হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। মার্কিন প্রশাসনের চোখে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এই জঙ্গি নেতা সংগঠনের আদর্শ প্রসারে তুখোড় বক্তা হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তিনি ‘জৈশ-ই-মনকাফা’ নামে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করলেও, আদর্শিকভাবে লস্করের কর্মকাণ্ডেই যুক্ত ছিলেন।

হামলার প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক প্রথম সারির জঙ্গি নেতাদের ওপর রহস্যময় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যেমন পাক গুপ্তচর সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জঙ্গিদের পুরোনো সমীকরণ বদলাচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। আমির হামজার এই পরিস্থিতির জেরে দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের ভাঙন বা নতুন কোনো অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক নজরে

  • লাহোরে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অফিসের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা।
  • ২০০৫ সালের ঐতিহাসিক বেঙ্গালুরু আইআইএসসি হামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে আমির হামজা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন।
  • গত বছর মে মাসের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হলেন এই কুখ্যাত জঙ্গি নেতা।
  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপে ২০১৮ সালে তিনি ‘জৈশ-ই-মনকাফা’ নাম দিয়ে নিজস্ব জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *