লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-কন্যাশ্রী বন্ধ হবে না, তবে নিয়মে কড়াকড়ি; নবান্নে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ক্ষমতায় এসেই রাজ্যের কয়েক কোটি মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘যুবসাথী’র মতো কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করছে না নতুন বিজেপি সরকার। তবে প্রকল্পগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রকল্প থাকবে, তবে বাদ পড়বেন ‘অযোগ্য’রা
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো চালু থাকলেও তাতে কড়া নিয়মবিধি কার্যকর করা হবে। শুভেন্দু বলেন, “কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না, তবে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অভারতীয় নাগরিক বা মৃত ব্যক্তিরা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা সুনিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও জানান, সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমস্ত সুবিধাভোগীর তালিকা খতিয়ে দেখে পোর্টাল আপডেট করা হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য দাবিদাররাই এখন থেকে এই সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের সমন্বয়
রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পের পাশাপাশি কেন্দ্রের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পও এবার পশ্চিমবঙ্গে পুরোদমে চালু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ থেকে শুরু করে ‘পিএম কিষাণ’—সবই এখন থেকে রাজ্যের মানুষ পাবেন। তাঁর লক্ষ্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রকল্পের মেলবন্ধনে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবাকে আরও উন্নত করা।
রাজনৈতিক বার্তা ও প্রশাসনিক সংস্কার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনপ্রিয় প্রকল্পগুলো চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সুকৌশলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় থাবা বসালেন। একই সঙ্গে মৃত বা ভিনদেশের নাগরিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বার্তাও দিলেন। নবান্নের প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা একাধারে যেমন সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিল, অন্যদিকে দুর্নীতির ছিদ্রপথগুলো বন্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখল।
রাজ্যের এই ‘নতুন জমানায়’ প্রকল্পের এই সংস্কার নিয়ে আপনার কী অভিমত? আমাদের জানান।