রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক হিংসার আগুন এবং আসানসোল থেকে নন্দীগ্রাম জ্বলছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার মাটি। ফলপ্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা। আসানসোল থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম—একাধিক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ সামনে আসছে। জয়-পরাজয়ের সমীকরণ পরিষ্কার হতেই দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তির দাবানল।
গোলমালের সূত্রপাত হয় পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল এলাকা থেকে। এরপর সেই হিংসার আঁচ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের চুরুলিয়া, পানুরিয়া ও বারাবনিতে। প্রতিটি জায়গাতেই তৃণমূলের পার্টি অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং বেশ কিছু কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের আঙুল মূলত জয়ী শিবিরের উন্মত্ত সমর্থকদের দিকে থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।
হিংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি জঙ্গলমহল কিংবা বীরভূমের মতো জেলাগুলোও। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, রঘুনাথগঞ্জ এবং নদীয়ার নবদ্বীপেও একই ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। বীরভূমের সদাইপুর, কীর্ণাহার এবং দুবরাজপুরে তৃণমূলের কার্যালয়গুলো কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গাতেই ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাপ থেকে বাদ যায়নি খোদ কলকাতাও। কসবা এলাকার দাপুটে নেতা তথা বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে একজন উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধির কার্যালয়ে এমন সরাসরি হামলায় পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জেলা থেকে শহর—সর্বত্রই এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। অশান্তি রুখতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধাসেনা।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।