যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জনের মুক্তি ঘিরে উত্তাল শিলদা, মালা পরিয়ে মিছিল তৃণমূলের
তিন দশক আগের রক্তক্ষয়ী রাজনীতির স্মৃতি উসকে দিয়ে ঝাড়গ্রামের শিলদায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল। ১৯৯৩ সালে দিয়াশী গ্রামে ছয় সিপিএম কর্মীকে নৃশংসভাবে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৪৫ জন ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর জেলমুক্ত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এই ব্যক্তিদের গলায় মালা পরিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে এলাকায় বিশাল মিছিল বের করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের রায় ও আইনি প্রক্রিয়া
গত বছরের শেষদিকে ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা আদালত এই ৪৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে অভিযুক্তদের পরিবার তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতোর মাধ্যমে উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। গত ২১ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁদের সকলের জামিন মঞ্জুর করলে জেল থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। উল্লেখ্য, এই মামলায় মোট ১০৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও বিচার চলাকালীন ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯ জন এখনও নিখোঁজ।
রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
১৯৯৩ সালের মে মাসে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক মহেন্দ্রনাথ হেমব্রমের খুনের বদলা নিতেই দিয়াশী গ্রামের ছয় সিপিএম কর্মীকে অপহরণ করে অঙ্গচ্ছেদ ও হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে চলা এই মামলার রায় এবং পরবর্তীতে দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অরণ্যমহলের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শাসকদলের পক্ষ থেকে খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের এভাবে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
এক ঝলকে
- ১৯৯৩ সালের দিয়াশী গণহত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৪৫ জন হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন।
- শনিবার সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রামের শিলদা বাজারে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মালা পরিয়ে মিছিল করে তৃণমূল কংগ্রেস।
- মিছিলে তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাতোসহ স্থানীয় ব্লক পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।
- ছয় সিপিএম কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে গত ডিসেম্বরেই তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত।