বিধানসভায় শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্য, ওয়াকআউট ঋতব্রতদের!

বিধানসভায় মমতাকে শুভেন্দুর আক্রমণ, তৃণমূলের অন্দরে স্পষ্ট বিভাজন

মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট-ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে ১৫,১০৫ ভোটে মমতার পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, নিজের বুথে হেরেও কীভাবে জননেত্রী হওয়া যায়। এই আক্রমণের প্রতিবাদে তৃনমূলের বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে। তবে সেই সময় বিধানসভায় উপস্থিত থাকা কুণাল ঘোষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা সভার কাজকর্ম থেকে সরে না গিয়ে নিজেদের আসনেই বসে থাকেন। তৃণমূলের এই বিভক্তি এবং ভিন্ন অবস্থান বঙ্গরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কুণাল ঘোষ নিজের অবস্থানে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন। কুণালের এই দাবির প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, দলের দম্ভ, অহংকার, দুর্নীতি ও পরিবারবাদের কারণেই এই করুণ দশা হয়েছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে দল থেকে ২০ জন সাংসদ এবং ৮০ জনের মধ্যে ৬২ জন বিধায়ক সরে গিয়েছেন। ঋতব্রত বা অন্য বিধায়কদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণ ও তৃণমূল বিধায়কদের এই বিপরীতমুখী অবস্থান বিধানসভার অন্দরে দলের ভাঙনকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *