মমতাকে সরানোর ডাক, ঋতব্রতদের নতুন চালে দ্বিধাবিভক্ত তৃণমূল!
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছে। বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে বিশেষ অধিবেশনের নথিপত্র জমা দিয়েছে। ওই নথিতে মমতাকে সরিয়ে অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৩০ সদস্যের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এই বিদ্রোহের জেরে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে রাজনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, অরূপ রায় ও আখরুজ্জামানের প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনার সঙ্গে দেখা করে দলের ওপর নিজেদের অধিকারের দাবি জানায়। ঋতব্রত দাবি করেছেন যে তাঁদের শিবিরই ‘আসল তৃণমূল’ এবং জোড়াফুল প্রতীকের ওপর তাঁদেরই অধিকার রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরেও এই শিবিরের আইনজীবীরা যোগাযোগ করেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ছয় বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবে।
এই বিদ্রোহী শিবিরে সম্প্রতি প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং বিধায়ক অশোক দেব যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছে। তারা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে পাল্টা চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে বহাল রয়েছেন। দলের প্রতীক ও আইনি অধিকার নিয়ে এই টানাপোড়েন এখন বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের পথে এগিয়ে চলেছে।