বিশ্ববাজারে মালদার রাজকীয় আম, ৩০০ মেট্রিক টন রফতানির লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাপক প্রস্তুতি!
মালদার বিশ্বখ্যাত আমের স্বাদ এবার নিতে চলেছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাসিন্দারা। মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার মতো বড় বাজারগুলিতে বিপুল পরিমাণ আম রফতানির প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও উদ্যানপালন দপ্তর। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ মেট্রিক টন আম রফতানি করা হলেও, এ বছর সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই রফতানি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার
আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে এবার চাষের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলার প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ হেক্টর আমবাগানকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ব্যবহার এড়িয়ে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ প্রযুক্তিতে জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে গাছের প্রতিটি আমকে বিশেষ ধরনের কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হচ্ছে। এর ফলে আম যেমন দাগহীন ও উজ্জ্বল হবে, তেমনই বিদেশের কড়া মানদণ্ড পূরণ করা সহজ হবে। জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, আমের ফলন ও বিপণন বাড়াতে প্যাকেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে যাতে রফতানির ক্ষেত্রে কোনো পরিকাঠামো গত বাধা না থাকে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
মালদার অর্থনীতি মূলত আম শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে মালদার আমের চাহিদা বাড়লে জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল। ‘মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, উদ্যানপালন দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা সিআইএসএইচ-এর এই যৌথ উদ্যোগ সফল হলে আগামী বছরগুলিতে রফতানির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় আম চাষিরা যেমন ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনই জেলার আম শিল্পে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।