রেইকি করেই ঠান্ডা মাথায় খুন! আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন শুভেন্দু
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতের এই ঘটনাকে নিছক কোনো অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। খোদ শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুষ্কৃতীরা গত কয়েক দিন ধরে নিয়মিত রেইকি চালিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরই এই হামলা চালিয়েছে।
পরিকল্পিত হামলার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র
বুধবার রাতে হাসপাতালে আহতদের দেখে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শুভেন্দু জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এটি একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা ছিল। ঘটনার সময় চন্দ্রনাথবাবু তাঁর গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে গাড়ি থামতেই খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন। শুভেন্দুর মতে, এই খুনের পেছনে রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও দলের অবস্থান
ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও বিমানবন্দর থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে যা থেকে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের তদন্তের ওপর আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। একই সঙ্গে তিনি দলের কর্মীদের শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মৃতের পরিবার ও আহত চালকের সমস্ত দায়ভার দল বহন করবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি উল্লেখ করেন, একই দিনে খড়দহ, বরাহনগর এবং বসিরহাটেও বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ইস্যুটি পুনরায় নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।