বায়ুসেনার চাকরি ছেড়ে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী, কে এই নিহত চন্দ্রনাথ রথ?

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার রাতের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু নয়, বরং বিরোধী দলনেতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত এক ছায়াসঙ্গীর আকস্মিক প্রস্থান। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক ধরে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন।

বায়ুসেনা থেকে রাজনীতির আঙিনায়

১৯৮৪ সালে জন্ম নেওয়া চন্দ্রনাথ রথের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে। মেধাবী এই যুবক কর্মজীবনের শুরুতে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিয়েছিলেন। তবে ১৮ বছর সেখানে চাকরি করার পর আধ্যাত্মিকতার টানে সন্ন্যাস নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি কর্পোরেট ও রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। তার মা হাসি রথ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন, যা চন্দ্রনাথকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কাছাকাছি নিয়ে আসে। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাদের পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

তৃণমূল থেকে বিজেপি, ছায়ার মতো বিশ্বস্ততা

চন্দ্রনাথ রথের রাজনৈতিক পরিচয় শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলেছে। ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী যখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রী, তখন থেকেই চন্দ্রনাথ তাঁর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালে শুভেন্দু তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিলে, চন্দ্রনাথও তাঁর অনুগামী হিসেবে দলবদল করেন। বিরোধী দলনেতার যাবতীয় সাংগঠনিক কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্বও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সামলাতেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, ভবিষ্যতে শুভেন্দু বড় কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে এলে চন্দ্রনাথই হতেন তাঁর প্রধান কাণ্ডারি।

হত্যাকাণ্ড ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথের স্করপিও গাড়ি আটকে দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। বন্ধ কাঁচের ওপর দিয়েই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি বাইক দীর্ঘক্ষণ ধরে গাড়িটিকে অনুসরণ করছিল। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *