বিজয় মিছিলে দাদাগিরি রুখতে কড়া দাওয়াই বিজেপির ভাবী বিধায়কদের

রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা দখলের পর যখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের খবর আসছে, ঠিক তখনই দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কড়া অবস্থান নিলেন বহরমপুর ও সিউড়ির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বদলা নয়, বদলাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলতা দমনে সরাসরি পথে নামলেন সুব্রত মৈত্র ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। নিজেদের দলের পতাকা নিজেরাই খুলে দিয়ে তাঁরা স্পষ্ট করে দিলেন যে, গায়ের জোরে দখলদারি আর বরদাস্ত করা হবে না।

দখল হওয়া কার্যালয় মুক্ত করতে বিধায়কের কড়া পদক্ষেপ

বহরমপুর শহরে একটি পুর পরিষেবা কেন্দ্র দখল করে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সেখানে পৌঁছান জয়ী প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। নিজ হাতে দলীয় পতাকা খুলে ফেলে তিনি কর্মীদের হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনোভাবেই সরকারি সম্পত্তি বা বিরোধীদের কার্যালয় দখল করা যাবে না। সুব্রত মৈত্র জানান, ভাঙচুর ও দখলদারির এই সংস্কৃতি বিজেপির নয়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিজেপির বদনাম করতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের কর্মীরাও অনেক জায়গায় এই ধরণের উস্কানিমূলক কাজ করছে। কোনো বিজেপি কর্মী এতে জড়িত থাকলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

শৃঙ্খলার পাঠ দিতে সিউড়িতে নজিরবিহীন তৎপরতা

একই চিত্র দেখা গেছে বীরভূমের সিউড়িতে। সেখানে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় দখল করে বিজেপির ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন অতি-উৎসাহী কর্মীরা। খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিউড়ির জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি অবিলম্বে সেই কার্যালয় থেকে বিজেপির প্রতীক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। জগন্নাথ স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশ যেন দলমত নির্বিশেষে এই ধরণের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেয়। প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

হিংসা রুখতে দলীয় নেতৃত্বে কঠোর অবস্থান

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কেউ গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়লে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। মুখ্যসচিবকে লেখা বার্তায় তিনি রাজনৈতিক রং না দেখে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের আবহে কর্মীদের অতি-সক্রিয়তা যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটায়, তার জন্যই এই সাবধানী ও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও ভাবী বিধায়করা। মূলত জনমানসে দলের স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন তাঁদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *