এবার নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে চলুন: বিবেক অগ্নিহোত্রী
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই মমতার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদায়কে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। এই পরিবর্তনকে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলার সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এই পরিচালক।
পুরনো সংঘাত ও সেন্সরশিপের অভিযোগ
বিবেক অগ্নিহোত্রী তাঁর বার্তায় বিগত বছরগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাথে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ মুক্তির সময় তৎকালীন মমতা সরকার তাঁকে বাংলায় বয়কট করেছিল এবং প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবির ট্রেলার লঞ্চের সময় তাঁর ও তাঁর দলের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আইনি জটিলতা এবং একাধিক এফআইআর-এর কারণে তিনি রাজ্যপালের হাত থেকে পুরস্কার নিতেও বাংলায় আসতে পারেননি বলে জানান।
গোপন প্রচার ও রাজনৈতিক প্রভাব
নির্মাতা দাবি করেছেন যে, শত বাধা এবং আইনি প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। নির্বাচনের সময় তিনি কৌশলগতভাবে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিটি গোপনে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর মতে, সত্য প্রচারের এই জেদই বর্তমান ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই রাজ্যে এই বিশাল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
সাংবিধানিক দায়িত্ব ও হিন্দু গণহত্যা প্রসঙ্গ
ভোট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিবেক একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ছবি প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ জানাতে দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেন্সর বোর্ড বা সিবিএফসি দ্বারা অনুমোদিত ছবি প্রদর্শন নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক কর্তব্য। একইসঙ্গে বাংলার ইতিহাসকে একটি ‘বেদনাদায়ক অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি হিন্দু গণহত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই বিষয়ে কথা বলা যদি অপরাধ হয়, তবে তিনি সেই শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে রাজ্যে বাক-স্বাধীনতা এবং সৃজনশীল কাজের পরিবেশ পুনরায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।