“হার মেনে নিন মমতা!” বাংলায় ২০৬ আসন জিতে হুঙ্কার সুকান্তর, তৃণমূলের পতন নিয়ে বড় দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের দাবি তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর মঙ্গলবার তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, সিসিটিভি ট্যাম্পারিং বা কারচুপির অভিযোগ তোলার পরিবর্তে জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই এখন তৃণমূল কংগ্রেসের একমাত্র পথ হওয়া উচিত।
তৃণমূলের অভিযোগ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূলের তোলা প্রশ্নের কড়া জবাব দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি উল্লেখ করেন, একই নির্বাচন কমিশন কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরিচালনা করেছে। যদি কেরালায় গণতন্ত্রের জয় হতে পারে, তবে বাংলায় পরাজয়ের পর কমিশনের ওপর দায় চাপানো যুক্তিহীন। তাঁর মতে, যে রাজনৈতিক দল জনগণের রায়কে খাটো করে দেখে, তাদের পতন অনিবার্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা গুরুত্বহীন মন্তব্যের চেয়ে বিজেপির কাছে দেশের স্বার্থই সর্বদা অগ্রাধিকার পায়।
বিজেপির উত্থান ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন থেকে লাফিয়ে ২০৬টি আসনে বিজেপির পৌঁছে যাওয়াকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সুকান্ত মজুমদার এই জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং দলীয় কর্মীদের দীর্ঘ লড়াইকে। তবে জয়ের আবহে দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের মতো হিংসাত্মক পথে না হেঁটে বা কোনো পার্টি অফিস দখল না করে ভয়ের পরিবেশ দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরিষ্কার জানিয়েছেন, কোনো বিজেপি কর্মী আইন হাতে তুলে নিলে দল তার পাশে দাঁড়াবে না।
এই ফলাফলের ফলে দীর্ঘদিনের বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূলের আধিপত্য খর্ব করে বিজেপি বাংলার প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হিন্দু ভোটব্যাংকের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২১২ থেকে ৮০-তে নেমে আসা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে।