বাংলায় গেরুয়া ঝড়, নবান্ন দখলের পথে বিজেপি!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতা রাজ্যে এক বিশাল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটা পিছনে ফেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করার পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে গণনা চলছে, যেখানে প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী বিজেপি ১৯০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, গত এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত ৯৮টি আসনে লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যপরীক্ষা ও অঘটন

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন। প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮৯৮ ভোটে এগিয়ে থাকলেও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী কড়া টক্কর দিচ্ছেন। তবে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের চিত্র শাসক শিবিরের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা বর্তমানে পিছিয়ে রয়েছেন। চুনচুড়ায় তৃণমূলের দেবাংশু ভট্টাচার্য, দমদমে ব্রাত্য বসু এবং বিধাননগরে সুজিত বোস বিজেপির প্রার্থীদের কাছে পিছিয়ে পড়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড়সড় অঘটনের আশঙ্কা করছেন।

জেলায় জেলায় ঘাসফুলের রক্তক্ষরণ

জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ—প্রায় সর্বত্রই গেরুয়া শিবিরের দাপট দেখা যাচ্ছে। বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরের অধিকাংশ আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। আরজি কর ইস্যু এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলি ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পানিহাটিতে আরজি কর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথের এগিয়ে থাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হওয়া ঝাড়গ্রামে বিজেপির লিড এক বিশেষ বার্তা বহন করছে।

ফলাফলের কারণ ও প্রভাব

প্রাথমিক এই প্রবণতা বজায় থাকলে দীর্ঘ দশ বছর পর বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির এই উত্থানের পিছনে তাদের সঠিক প্রার্থী নির্বাচন এবং স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক প্রচার বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার কারণ হিসেবে শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং প্রশাসনিক কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা স্পষ্ট হতে আরও কিছুটা সময় লাগলেও, বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *