ডোমকলে কি ফিরছে লাল সূর্য, মুস্তাফিজুরের বড় লিডে বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের পথে বামেরা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার শুরুতেই বড় চমক মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে কি বিধানসভায় এন্ট্রি নিতে চলেছে বামেরা? গণনার শুরু থেকেই ডোমকলের সিপিআইএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানা যেভাবে লিড বজায় রেখেছেন, তাতে উচ্ছ্বসিত আলিমুদ্দিন। চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূল প্রার্থীকে পিছনে ফেলে ৮ হাজার ৩৫৭ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মুস্তাফিজুর।
তৃণমূলে ভাঙন ও বামেদের রণকৌশল
ডোমকলে বামেদের এই অভাবনীয় উত্থানের নেপথ্যে একাধিক কারণ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের ঠিক আগেই এই কেন্দ্রে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরেছিল। বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক দল ছেড়ে সিপিআইএম-এ যোগ দেওয়ায় এলাকায় বামেদের সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে তৃণমূলের একাধিপত্যে থাবা বসাতে সফল হয়েছেন মুস্তাফিজুর। স্থানীয় স্তরে শাসকদলের অন্তর্কলহ এবং দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করেই ডোমকলের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল নিয়েছিল বাম নেতৃত্ব, যা গণনার ট্রেন্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ভোটের সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনের দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে ডোমকল জুড়ে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ালেও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুথমুখী হয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ছিল, তাকেই কাজে লাগিয়েছেন মুস্তাফিজুর। যদি শেষ পর্যন্ত এই জয়ের ধারা বজায় থাকে, তবে গত বিধানসভায় ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়া বামেদের জন্য এটি হবে এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। ডোমকলের এই জয় আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও বাম কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।