বাংলাজুড়ে কাটল প্রশাসনিক জট, অবশেষে প্রত্যাহার করা হলো নির্বাচনী আচরণবিধি
দীর্ঘ দুই মাস পর পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ৪টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করা হলো আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নতুন প্রকল্প ঘোষণার ক্ষেত্রে গত কয়েক মাস ধরে যে আইনি বাধা ছিল, তার অবসান ঘটল।
প্রশাসনিক কাজে ফিরছে গতি
গত ১৬ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছিল নির্বাচনী আচরণবিধি। নিয়ম অনুযায়ী, এই সময়কালে সরকার কোনো নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এই প্রেক্ষাপটে কমিশনের সচিব সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর নির্বাচন দপ্তরকে চিঠি দিয়ে আচরণবিধি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রশাসনিক বদলি-পদোন্নতির প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলতায় থাকছে কড়া নজরদারি
পুরো রাজ্যে বিধি নিষেধ উঠে গেলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এই তালিকার বাইরে থাকছে। গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের সময় সেখানে নজিরবিহীন গোলমালের অভিযোগ ওঠায় কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই কারণে শুধুমাত্র ফলতা এলাকায় নির্বাচনী বিধি ও কড়াকড়ি বহাল থাকছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বাকি অংশে উন্নয়নের চাকা ঘুরতে শুরু করলেও, ফলতায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হবে।