১০১টি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি! খাস কলকাতাতেও কি অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল?
রাজ্য রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকছে পশ্চিমবঙ্গ। নীলবাড়ি অর্থাৎ রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে ক্ষমতা হারিয়েছে ঘাসফুল শিবির; রাজধানী এখন পদ্ম শিবিরের দখলে। এই পটপরিবর্তনের পরেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে কলকাতার ‘ছোট লালবাড়ি’ বা পুরসভাকে ঘিরে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০১টিতেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, যেখানে বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৪৩টি ওয়ার্ডে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পেরেছে। এই পরিসংখ্যানই আসন্ন পুরভোটে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।
সংখ্যালঘু বলয় ও গণক্ষোভের চ্যালেঞ্জ
তৃণমূল শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ বলছে, কসবা, তিলজলা, খিদিরপুর বা রাজাবাজারের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলো বাদ দিলে শহরের বাকি অংশে দলের জমি কার্যত ধসে পড়েছে। দলীয় নেতৃত্বের একাংশ ঘরোয়া আলোচনায় মেনে নিচ্ছেন যে, গত ১৫ বছরে স্থানীয় স্তরের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জমা হওয়া গণক্ষোভই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। বিশেষ করে বেপরোয়া সিন্ডিকেটরাজ, জলাজমি ভরাট করে বহুতল নির্মাণ এবং কাউন্সিলরদের একাংশের অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মনে গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক বিদায়ী কাউন্সিলর এখন কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো তো দূর, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বিগ্ন।
পুরসভা হাতছাড়ার আশঙ্কায় তৃণমূল
আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোট করিয়ে নিতে পারে। শুধু কলকাতা নয়, বিধাননগর, হাওড়া, চন্দননগর এবং শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমগুলোতেও বিধানসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূল অনেকটাই পিছিয়ে। ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলবদলের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শহরগুলো রক্ষা করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর কলকাতার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রবল আশঙ্কায় এখন কার্যত কোণঠাসা জোড়াফুল শিবির।