মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা প্রথম বৈঠকেই ১১ বিধায়ক গরহাজির, তুঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে জল্পনা!
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই দেখা দিল বড়সড় ফাটল। দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১১ জন উপস্থিত হননি। খোদ দলনেত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এত সংখ্যক বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য এবং নানামুখী জল্পনা।
অনুপস্থিত বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের হাসনের কাজল শেখ, সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাস, ভরতপুরের মুস্তাফিজুর রহমান এবং আমডাঙার কাশেম সিদ্দিকির মতো পরিচিত নামগুলো। দলীয় সূত্রের খবর, কাজল শেখের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে নানুরে রাজনৈতিক অশান্তিতে একজনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও, বাকিদের গরহাজির থাকার নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জনসমক্ষে আসেনি। এই ঘটনাকে ‘বেনজির’ বলে উল্লেখ করেছেন বৈঠকে উপস্থিত দলের প্রথম সারির একাধিক নেতা।
তৃণমূলের ব্যাখ্যা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে, জয়ী প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দিয়েছেন। তবে এই ব্যাখ্যায় জল্পনা থামছে না। দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, নবনির্বাচিত বিধায়কদের প্রথম সভাতেই এমন অনুপস্থিতি অনেক উপস্থিত সদস্যকেও চমকে দিয়েছে। বিশেষ করে দূরের জেলা থেকে আসা প্রার্থীরা যখন সময়মতো হাজিরা দিয়েছেন, তখন নির্দিষ্ট কিছু নেতার গরহাজির থাকা নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বৈঠক চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে অত্যন্ত কড়া মনোভাব পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করবেন বা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এই পরিস্থিতির প্রভাব হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের ভেতর সমন্বয় রক্ষা করা এখন শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বৈঠকের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কোনো নেতার ব্যক্তিগত মতামত দলের বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে না। এই বিবৃতিটি মূলত দলের ভেতরে ক্রমবর্ধমান বাক-স্বাধীনতা বা মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণ করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এই ১১ জন বিধায়কের গতিবিধি এবং দলের পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে।