প্রেমের ফাঁদে সর্বনাশ! ৫০০ মহিলার ২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও যুবক

বর্তমান ডেস্কঃ

ডিজিটাল যুগে প্রেমের ফাঁদ পেতে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অন্তত ৫০০ মহিলার সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের জালে ধরা পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার এক যুবক। আনন্দ কুমার নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত গত কয়েক বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

যেভাবে চলত প্রতারণার কারবার

অভিযুক্ত আনন্দ কুমার মূলত সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী বা ফিল্ম প্রযোজক হিসেবে পরিচয় দিত। তদন্তে উঠে এসেছে তার প্রতারণার কৌশলের কিছু বিশেষ দিক:

  • একাধিক ছদ্মনাম: বৈভব অরোরা, ড. রোহিত বেহল, আনন্দ শর্মা, শিখা বা তরুণের মতো একাধিক নামে ভুয়ো প্রোফাইল চালাত সে।
  • আবেগীয় ব্ল্যাকমেল: প্রথমে বন্ধুত্ব ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে মহিলাদের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপরই শুরু হতো আসল খেলা। কখনও চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন, কখনও ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা বলে অর্থ সাহায্য চাইত।
  • ভয়াবহ পরিণতি: টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর সে নিজেকে মৃত বলে ঘোষণা করত অথবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে মহিলাদের ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত ও গ্রেফতারি

দিল্লির দক্ষিণ পশ্চিম সাইবার থানায় এক মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। ওই মহিলা জানান, নিজেকে বৈভব অরোরা পরিচয় দিয়ে আনন্দ তার থেকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সে নিজেরই এক বন্ধু হিসেবে ‘আনন্দ’ নামের আরেকটি ভুয়ো চরিত্রের সঙ্গে মহিলার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। টাকা চাওয়া শুরু করলে এক পর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই মহিলাকে জানানো হয় যে বৈভব মারা গেছে।

সাইবার ক্রাইম টিমের সদস্যরা আইপি লগ (IP Log), মোবাইল নম্বর এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করেন। উত্তর ২৪ পরগনায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অবশেষে আনন্দ কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ৮টি সিম কার্ড, ৪টি স্মার্টফোন, একাধিক সোনার গয়না ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকি ও বিশ্লেষণ

এই ঘটনাটি অনলাইন দুনিয়ায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দুর্বলতাকে আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে। আনন্দ কুমার যেভাবে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্ল্যাকমেলিং ও হানিট্র্যাপিং চালিয়েছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুলিশ জানিয়েছে, সে বারবার মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড পরিবর্তন করে নিজের পরিচয় গোপন রাখত। দিল্লি ও গাজিয়াবাদেও তার বিরুদ্ধে এর আগে অপরাধমূলক মামলা ছিল। বর্তমানে পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

এক নজরে

  • অভিযুক্ত: আনন্দ কুমার (৩৫), উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা।
  • শিকার: দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫০০ জন মহিলা।
  • লুট করা অর্থ: আনুমানিক ২ কোটি টাকা।
  • ব্যবহৃত অ্যাপ: ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, বিভিন্ন ডেটিং ও ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট।
  • উদ্ধার: ৪টি স্মার্টফোন, ৪টি সোনার রিস্টলেট, ৫টি সোনার চেইন ও ডেবিট কার্ড।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *