পাহাড়ের ‘শেষ কথা’ গুরুং-ই! সন্ন্যাস নিতে হলো না, বিজেপিকে জিতিয়ে ফের কিং মেকার বিমল
দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতিতে আবারও নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। সব জল্পনা ও সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে পাহাড়ের চারটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপি প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে জয়ী করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সুবাস ঘিসিং-পরবর্তী যুগে পাহাড়ের ‘কিং মেকার’ এখনো তিনিই। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই সিংমারি থেকে কালিম্পং, সর্বত্র মোর্চা কর্মীদের উল্লাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
পাহাড়ে গুরুং ম্যাজিক ও বিজেপির জয়জয়কার
বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের ভাগ্য নির্ধারণে বিমল গুরুংয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সের মাদারিহাট আসনেও গুরুং সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। দার্জিলিং আসনে নোমান রাই, কার্শিয়াংয়ে সোনম লামা, কালিম্পংয়ে অলিম্পিয়ান ভরত ছেত্রী এবং মাদারিহাটে লক্ষ্মণ লিম্বুর জয় গেরুয়া শিবিরের ভিতকে আরও মজবুত করল। এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও রাজু বিস্তার জয়ে নেপথ্য কারিগর ছিলেন গুরুং। এবারের জয়ে ডুয়ার্স ও পাহাড় মিলিয়ে চারটি আসন নিজের ঝুলিতে রেখে তিনি প্রমাণ করলেন যে গোর্খা ভোট ব্যাংক এখনো তাঁর ইশারাতেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
ফলাফলের নেপথ্য কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বিরুদ্ধে পাহাড়ের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়েছেন গুরুং। নিয়োগ দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং পাহাড়ের নিজস্ব আবেগ—এই ইস্যুগুলোকে ঢাল করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছেন তিনি। নিজে প্রার্থী না হয়েও পাহাড়ের চারটি আসনকে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি এই আসনগুলোতে জয় না এলে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বড় জয় আসায় পাহাড়ের রাজনীতিতে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নাতীত হয়ে উঠল।
এই জয়ের ফলে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জিএনএলএফের মতো বিরোধী শক্তিগুলো বড়সড় ধাক্কা খেল। অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও বিমল গুরুংয়ের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেল। আগামী দিনে পাহাড়ের স্বশাসন এবং গোর্খ্যাল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে গুরুং নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।