ক্ষমতা বদলাতেই জগদ্দলে সক্রিয় বুলডোজার, সোমনাথ শ্যামের গড়া পার্ক গুঁড়িয়ে দিলেন মালিক
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল জগদ্দল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতা দখল করতেই উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে চলল বুলডোজার। প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে ওঠা ‘জবরদখল’ করা জমিতে নির্মিত একটি পার্ক এদিন গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জমির প্রকৃত মালিকপক্ষ। ৪ মে রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দখলমুক্তির দাবিতে উচ্ছেদ অভিযান
স্থানীয় সূত্রে খবর, জগদ্দল বিধানসভার গাঙ্গুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজলী গাঙ্গুলীর একটি ব্যক্তিগত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রাখার অভিযোগ ছিল প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে ওই জায়গায় জোরপূর্বক ‘বিশ্ব বাংলা’ লোগো ব্যবহার করে একটি পার্ক গড়ে তোলা হয়। গতকাল রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই বুলডোজার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে জায়গাটি দখলমুক্ত করেন। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় এলাকায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও তাঁরা বিষয়টিকে ‘পারিবারিক ব্যাপার’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, দলীয়ভাবে এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই; ব্যক্তিগত জমি উদ্ধার করা পরিবারের আইনি অধিকার।
উচ্ছেদের প্রভাব ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে জগদ্দলের এই ঘটনা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে গত ২ মে পান্ডুয়ায় রেলের পক্ষ থেকে গভীর রাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। জগদ্দলের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যক্তিগত মালিকানা সংক্রান্ত হলেও, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই বুলডোজারের সক্রিয়তা রাজ্যে ‘রিভেঞ্জ পলিটিক্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ফল কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসনিক স্তরে বা পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই ভাঙচুর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এই ধরণের ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।