ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ৪ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোনোভাবেই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেবেন না। তাঁর অভিযোগ, ইভিএম দখল করে জোরপূর্বক এই জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে ভারতের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কড়া আক্রমণ ও রাজনৈতিক চাপ

মমতা ব্যানার্জির পদত্যাগ না করার জেদকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ালে তাঁকে বরখাস্ত করাই একমাত্র পথ। বাংলার মানুষ অনেক সহ্য করেছেন উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর এই পরাজয় মেনে নিতে না পারায় তৃণমূল নেত্রীর এই অবস্থান রাজ্যকে এক গভীর প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও বরখাস্তের সম্ভাবনা

আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা ব্যানার্জির এই প্রতিরোধ আইনিভাবে ভিত্তিহীন। প্রবীণ আইনজীবী শেখর নাফাদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য। ৬ মে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, যার পর সংবিধান অনুযায়ী কোনোভাবেই তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। তিনি আরও জানান, যদি মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম না মানেন, তবে রাজ্যপালের হাতে তাঁকে বরখাস্ত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না এবং এই পদক্ষেপ হবে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট আইনজীবী পিডিটি আচার্য স্পষ্ট করেছেন যে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানোর এখতিয়ার রাজ্যপালের থাকলেও, স্থায়ীভাবে পদে থাকার সুযোগ নেই। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার মমতার রয়েছে, তবে তা কোনোভাবেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদে টিকে থাকার ঢাল হতে পারে না। এই অনড় মনোভাবের ফলে আগামী দিনে বাংলায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ বা রাজ্যপালের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *